পরিচয় ও জন্মসূত্র: আমি মোছা: মরিয়ম খাতুন। বাবা মো: চায়েন উদ্দিন খাঁন এবং মা মোছা: ছাহেরা খাতুন। আমার শিকড় পাবনা জেলার আমিনপুর থানার অন্তর্গত বেড়া উপজেলার ‘নতুন মিরপুর’ গ্রামে। ৭ ভাই-বোনের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা; ভাই-বোনদের মধ্যে আমি তৃতীয়।
স্বপ্নের সূচনা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা: ছোটবেলা থেকেই আমার হৃদয়ে একটা বড় স্বপ্ন ডানা মেলেছিল—নিজের পরিবার, প্রতিবেশী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দেওয়া এবং আমাদের পিছিয়ে পড়া সমাজটাকে দারিদ্র্যমুক্ত করে একটি আদর্শ সমাজে রূপ দেওয়া।
সেই অদম্য ইচ্ছা থেকেই ২০১০ সালে আমার আত্মপ্রকাশ। গ্রামের ঘরে ঘরে ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের সেলাই এবং ব্লক-বাটিকের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার সংগ্রাম শুরু করি। একই সাথে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও বঞ্ছিত অংশ—প্রতিবন্ধী শিশুদের আলোর দিশা দিতে গড়ে তুলি একটি প্রতিবন্ধী স্কুল।
’সুপ্ত শিখা’ থেকে প্রবাসী জীবন: স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করলেও খুব শীঘ্রই অনুধাবন করি, এতো বড় স্বপ্ন ও উদ্যোগ একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ২০১২ সালের আলোয় পথচলা শুরু করে আমার প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুপ্ত শিখা সমাজ কল্যাণ সংস্থা’।
একজন স্বপ্নকন্যা হিসেবে সমাজকে নতুন কিছু দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আক্ষেপের বিষয় হলো—দীর্ঘদিন এই মহৎ কাজের পেছনে শ্রম দিয়েও কোনো সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাইনি। কিন্তু আমি হার মানিনি। নিজেকে আর্থিকভাবে শক্ত করে নিজের স্বপ্নগুলোকে টিকিয়ে রাখার তাগিদে বাধ্য হয়েই প্রবাস জীবনের কঠিন পথ বেছে নিই। প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের কথা ভুলিনি; তাই ২০২২ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে সমাজের মা-বোনদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত করতে চালু করি পবিত্র কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র। অর্থাভাব মাঝে মাঝে আমার গতি থামিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাসকে দমাতে পারেনি।
সংগ্রাম থেকে সাফল্য এবং নতুন অঙ্গীকার: আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য—মানুষকে ভালোবাসা এবং তাদের ভালো রাখা। আমার জন্মভূমির যে মানুষগুলো দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জন্য লড়াই করে, যাদের কান্না প্রতিদিন রাতজাগা পাখির মতো আমার হৃদয়ে এসে বিধতো, তাদের সেই আর্তনাদই ছিল আমার এগিয়ে যাওয়ার চালিকা শক্তি।
মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ কৃপায় গ্রামের সেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েটি আজ সুদূর ক্যালিফোর্নিয়ায় সার্টিফাইড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (C.N.A) হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও প্রতিষ্ঠিত। মানবতার সেবা করাকেই আমি আমার জীবনের চিরস্থায়ী ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আকুল আবেদন: ইনশাআল্লাহ, আমার অর্জিত বেতনের অর্ধেক অংশই আমি আমার জন্মভূমির অবহেলিত সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করতে চাই। বিদেশের মাটিতে স্বাস্থ্যসেবার যে উন্নত ব্যবস্থা দেখেছি—যেখানে মানুষ খাদ্য, বস্ত্র কিংবা চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারায় না—ঠিক তেমন একটি উন্নত ও ইন্স্যুরেন্সযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আমার নিজ দেশেও দেখতে চাই। এটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন হাজারো মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দূর হবে বেকারত্ব।
তবে এই বিশাল স্বপ্নের পথ একা অতিক্রম করা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। আমার দেশের মানুষের জীবনমান এই কল্যাণকর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সার্বিক সহযোগিতা আকুলভাবে কামনা করছি।